মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

এক নজরে

 

বিভাগীয় কল্যাণ বোর্ডের অগ্রযাত্রা

প্রতিটি সেক্টর ডিজিটালাইজেশন

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কাযালয়,খুলনা একটি সেবামূলক সরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি কর্মচারী ও তাদের পোষ্যদের নিকট কল্যাণমূলক সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়া এর কাজ। ইহা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। বাংলাদেশের ০৮ (আট) টি বিভাগ হতেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিভাগীয় কার্যালয়,খুলনা হতে সে সকল সেবাসমূহ প্রদান করা হয় তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:

ক) শিক্ষাবৃত্তি/শিক্ষাসহায়তা: ১১ থেকে ২০ গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি এবং অবসরপ্রাপ্ত/মৃত/অক্ষম কর্মচারীর সন্তানদের শিক্ষাসহায়তা প্রদান।

খ) সাধারণ চিকিৎসা অনুদান: কর্মরত/অক্ষম/অবসরপ্রাপ্ত/মৃত কর্মচারী ও তাঁদের পোষ্যদের অসুস্থতাজনিত চিকিৎসা সাহায্য প্রদান।

গ) জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা অনুদান: (প্রধান কার্যালয়, ঢাকা প্রদান করে থাকে)।

ঘ) দাফন-কাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া: কর্মরত কর্মচারীদের উপর নির্ভরশীল/পোষ্যদের মৃত্যুজণিত দাফন-কাফন এবং কর্মরত/অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মৃত্যুজনিত দাফন-কাফন/অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংক্রান্ত সাহায্য প্রদান।

ঙ) মাসিক কল্যাণ ভাতা: কর্মরত/অবসর ভোগরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর পোষ্যদের এবং অক্ষম অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মাসিক=১০০০/-(এক হাজার) টাকা যা বর্তমানে=২০০০/-(দুই হাজার) টাকা হারে ভাতা কর্মচারীর ৬৯ বছর বয়স পর্যন্ত/ সর্বোচ্চ ১৫ (পনের) বছর পর্যন্ত প্রদান।

চ) যৌথবীমার এককালীন অনুদান: শুধুমাত্র কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী কর্মচারীর উপর নির্ভরশীল/পোষ্যদের=১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা যা বর্তমানে =২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা এককালীন প্রদান।

ছ) ক্লাব/কমিউনিটি সেন্টারের জন্য অনুদান: সরকারি কর্মচারীদের দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত ক্লাব/কমিউনিটি সেন্টারসমূহের অনুকূলে বার্ষিক অনুদান প্রদান।

জ) স্টাফবাস কর্মসূচি (পরিবহন সুবিধা): সরকারি অফিসে কর্মরত কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য একটি বড় স্টাফবাস এবং এ কার্যালয়ের উপপরিচালকের যাতায়াতের জন্য একটি মাইক্রোবাস পরিচালিত হয়।

জ) মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: সরকারি কর্মচারীদের কন্যা সন্তানদের কারিগরি শিক্ষা প্রদানের জন্য জোড়াগেট সি.এম.বি. কলোনীতে ‘মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ নামে একটি প্রকল্প পরিচালিত হয়।

ঝ) কমিউনিটি সেন্টার: সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পোষ্যদের বিবাহ, জন্মদিন,সুন্নাতে খাৎনা ইত্যাদি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাড়া দেয়ার জন্য একটি দ্বিতল বিশিষ্ট সরকারি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে।

বর্তমানে বিভাগীয় কার্যালয়, খুলনা হতে উপরোক্ত সেবাসমূহ অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এমন একসময় ছিল যখন প্রাপক/প্রাপিকাদের নিকট সময়মতো সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হতো না। তখন অনুদান পরিশোধের প্রক্রিয়া ছিলো গতানুগতিক ও ধীরগতি সম্পন্ন। প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে যারা অফিসে এসে যোগাযোগ করতে সক্ষম না হতো তারা বিভিন্ন প্রকার অসাধু দালালদের দ্বারা প্রতারিত হতো। সেবা প্রদানকারী অফিস ও সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে যোগাযোগের সুব্যবস্থা না থাকায় অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ অনিষ্পন্ন নথিপত্রে স্তুপকৃত হয়ে পড়তো। যার দরুণ অফিসকক্ষগুলি ছিলো অগোছালো ও আবর্জনাবহুল।

সেবার সফলতা:

তবে বর্তমানে সেইদিন আর নেই। যান্ত্রিক প্রযুক্তির যুগ এসেছে। তাই বদলে গেছে সেবা অনুদান প্রক্রিয়া। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে এখনকার সেবা প্রদানের মান বেড়েছে। যান্ত্রিক প্রযুক্তির সাথে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারা যুক্ত হয়ে কর্মচারী কল্যাণ প্রক্রিয়া আশানুরূপ গতিশীলতা পেয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রতি টেবিলে টেবিলে এসেছে কম্পিউটার ও ইন্টারকম টেলিফোন। এরপর পর্যায়ক্রমে এসেছে টেলিভিশন, সি.সি.ক্যামেরা, ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের ব্যবহার ও অফিস আই.ডি.কার্ড। প্রতিটি সেবা প্রদানের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত আবেদন ফরম-এ যোগাযোগের জন্য টেলিফোন/মোবাইল নম্বরের কলাম সংযুক্ত করা হয়েছে। সেবা গ্রহীতাদের জন্য অভিযোগ/পরামর্শ রেজিষ্ট্রার চালু করা হয়েছে। ফলে সেবা গ্রহীতা ও সেবা প্রদানকারীর মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে এবং সেবা বিনিময় কাজটি আরো নিশ্চিত হয়েছে। আর এই কার্যালয়ের কল্যাণ বিনিময় ব্যবস্থাকে নিশ্চিত ও সময় উপযোগী করার পেছনে রয়েছে বর্তমান সময়ের উপপরিচালক জনাব মুঃ বিল্লাল হোসেন খান এর আন্তরিকতা ও একান্তিক প্রচেষ্ঠা। যে কোনো কাজে পদক্ষেপ নেয়ার শুরু থেকে শেষ অবধি তাঁর ভাবনা-‘কীভাবে আরো ভাল করা যায়;আরো উন্নত করা যায়’। তার উদ্যোগে অফিসের পুরাতন চেয়ার-টেবিল বদলে নতুন-রুচিশীল চেয়ার-টেবিল তৈরি করা হয়েছে। নথিপত্রের স্তুপ সরিয়ে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে আসবাবপত্র। উপপরিচালক এর কক্ষের মাঝে ও কক্ষের দরজার সামনে টবসহ সুদৃশ্য গাছ রেখে সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। একদৃষ্টে  বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয়, খুলনার অফিস এখন একটি পরিচ্ছন্ন সেবা কেন্দ্র। এখানে কর্মরত বর্তমান উপপরিচালক জনাব মুঃ বিল্লাল হোসেন খান এর একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া বাঞ্চণীয়। তিনি একজন সংস্কৃতিকমনা জীবনবাদী মানুষ। ২০০০ সালে তিনি ২০তম বি.সি.এস. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বি.সি.এস.(শিক্ষা) ক্যাডারে (ইংরেজি বিষয়ে) যোগ দিয়েছিলেন এবং ২০০৩ সালে ২২তম বি.সি.এস. পরীক্ষায় অংশগ্রহণকরে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বি.সি.এস. (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মক্ষেত্রে যুগান্তকারী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে তিনি বিভিন্ন পদক অর্জন করেছেন। ২০১৮ সালের ০১ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বিভাগীয় কার্যালয়, খুলনায় উপপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। সরকারি দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চাও করে থাকেন।

টার্গেট:

বর্তমানে বিভাগীয় কমিশনার ভবনের ৩/৪টি কক্ষ নিয়ে কল্যাণ বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উপপরিচালকের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে আরে ০১(এক) টি হলরুম এর সাথে সংযোজন হয়েছে।

এ কার্যালয়ের সেবাদান পদ্ধতিকে নতুন আঙ্গিকে রূপ দেয়া, কমিটি গঠন, পরিবর্তন,পরিবর্ধন ও সহজীকরণে তাঁর অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছে। আশা করা যায় ২০২৪ সাল নাগাদ এখানকার কমিউনিটি সেন্টারটি একটি বহুতল বিশিষ্ট ভবনে রূপান্তরিত হবে এবং এই ভবনটি হবে এই কার্যালয়ের নিজস্ব ভবন।

 

ছবি


সংযুক্তি



Share with :

Facebook Twitter